জীনতত্ত্ব (Genetics)
জীববিজ্ঞানের যে শাখায় বংশগতির রীতিনীতি (অর্থ্যাৎ বংশানুক্রমিক গুণাবলীর উৎপত্তি, প্রকৃতি, বৃদ্ধির সময় ও তাদের আচরণ) সম্পর্কে আলোচিত হয়, সে শাখাকে জীনতত্ত্ব বলে বা জেনেটিক্স বলে। উইলিয়াম বেটসন সর্বপ্রথম ‘জেনেটিক্স' শব্দটি প্রয়োগ করেন।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
বংশগতি (Heredity)
গ্রেগর জোহান মেন্ডেল
অস্ট্রিয়ার ধর্মযাজক মেন্ডেলকে জেনেটিক্স বা বংশগতির জনক বলা হয়। গ্রেগর জোহান মেন্ডেল ৩৪ প্রকারের মটরশুটি গাছ পরীক্ষা করেন এবং অবশেষে বংশগতির দুটি সূত্র আবিষ্কার করেন, যা মেন্ডেলের সূত্র নামে অভিহিত।
| মেন্ডেলের.. | অন্য নাম | অনুপাত |
| প্রথম সূত্র | পৃথকীকরণ সূত্র বা Law of Segaration | ৩ : ১ |
| দ্বিতীয় সূত্র | স্বাধীনভাবে সঞ্চারণের সূত্র বা Independent Assortment | ৯ : ৩ : ৩ : ১ |
মা ও বাবার কিছু কিছু বৈশিষ্ট্য সন্তান-সন্ততি পেয়েই থাকে।মাতা-পিতার বৈশিষ্ট্য যে প্রক্রিয়ায় সন্তান-সন্ততিতে সঞ্চারিত হয়, তাকে বংশগতি বলা হয়। বংশগতি একটি রক্ষণশীল প্রক্রিয়া। একই পূর্বপুরুষ থেকে সৃষ্ট সন্তানদের মধ্যে আকৃতি, গঠন-প্রকৃতি ও শারীরবৃত্তীয় সাদৃশ্য থাকলেও প্রত্যেকেরই কিছু স্বাতন্ত্র্য ও পার্থক্য থাকে। এ পার্থক্যগুলোকে পরিবৃত্তি (Variation) বলে।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
মেলানিন
মেলাটোনিন
হিমোগ্লোবিন
থায়ামিন
নিউক্লিয়াস
নিউক্লিওলাস
ক্রোমোজোম
নিউক্লিওপ্লাজম
ক্রোমোজোম (Chromosome)
নিউক্লিয়াসের ভিতর অবস্থিত নিউক্লিওপ্রোটিন দ্বারা গঠিত যে সব তম্ভর মাধ্যমে জীবের যাবতীয় বৈশিষ্ট্য বংশ পরম্পরায় সঞ্চারিত হয়, তাকে ক্রোমোসোম বলে। ১৮৮৮ সালে বিজ্ঞানী ওয়ালডেয়ার (Waldeyer) কোষ বিভাজনের প্রোফেজ দশায় প্রাপ্ত দণ্ডাকার গঠনের ক্রোমাটিনের নাম দেন ক্রোমোসোম। ক্রোমোসোমকে জীবের বংশগতির ধারক ও বাহক বলা হয়। ক্রোমোসোমে DNA, RNA, প্রোটিন প্রভৃতি থাকে। ক্রোমোসোম দুই প্রকার। যথা: (ক) অটোসোম, (খ) সেক্স- ক্রোমোসোম।
যে সকল ক্রোমোসোম জীবের দৈহিক বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে অটোসোম বলে। আবার যে ক্রোমোসোম জীবের যৌন বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে সেক্স ক্রোমোসোম বলে। মানুষের দেহকোষে ২৩ জোড়া (৪৬টি) ক্রোমোসোম থাকে। মানুষের দেহকোষে যে একই ধরনের ২২ জোড়া ক্রোমোসোম থাকে, তাদের অটোসোম বলে। মানবদেহে লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোসোম একজোড়া। পুরুষের দেহে XY সেক্স ক্রোমোসোম থাকে আর মহিলার দেহে XX সেক্স ক্রোমোসোম থাকে। ধান গাছে ১২ জোড়া ক্রোমোসোম থাকে। কুনোব্যাঙ এর ১১ জোড়া এবং গরুর থাকে ৩০ জোড়া।

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
নিউক্লিক এসিড (Nucleic Acids)
নিউক্লিওটাইডের পলিমারকে নিউক্লিক এসিড বলে। নিউক্লিক এসিড দুই ধরনের। যথা- DNA (Deoxiribonucleic Acid) এবং RNA (Ribonucleic Acid)
নিউক্লিওটাইড: নিউক্লিক এসিড এর মনোমার। যেমন; ATP, ADP, AMP, GTP ইত্যাদি।
| নিউক্লিওটাইড | নাইট্রোজেন বেস + পেন্টোজ সুগার + ফসফেট গ্রুপ |
| নিউক্লিওসাইড | নাইট্রোজেন বেস + পেন্টোজ সুগার |
নাইট্রোজেন বেস প্রধানত দুই ধরনের যথা:
| পিউরিন বেস | অ্যাডিনিন, গুয়ানিন |
| পাইরিমিডিন বেস | সাইটোসিন, থাইমিন, ইউরাসিল |
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
আমলকিতে
আঙ্গুরে
টমেটোতে
কমলালেবুতে
৬টি
৭টি
৮টি
৯টি
ডি.এন.এ ও আর.এন.এ (D.N.A & R.N.A)
জীনের রাসায়নিক গঠন উপাদান DNA। এটি নিউক্লিয়াসে থাকে। Restriction enzyme এর সাহায্যে প্লাজমিড ডি.এন.এ কে ছেদন করা হয়। ওয়াটসন ও ক্রিক দুজন ব্রিটিশ বিজ্ঞানী ১৯৫৩ সালে মানুষের বংশগতির ধারক ডিএনএ অণুর আণবিক গঠন আবিষ্কার করেন। ডিএনএ অণু আবিষ্কারের জন্য তাঁরা ১৯৬৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন। ওয়াটসন ও ক্রিক সর্বপ্রথম প্রকাশ করেন যে ডিএনএ অণু দ্বিসূত্রক এবং হেলিক্যাল (সর্পিল) আকৃতি বিশিষ্ট।
| নিউক্লিক এসিড | DNA | RNA |
| পিউরিন বেস | অ্যাডিনিন ও গুয়ানিন | |
| পাইরিমিডিন বেস | সাইটোসিন ও থাইমিন | সাইটোসিন ও ইউরাসিল |

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
নাইট্রোজেন
কার্বন
ফসফরাস
সোডিয়াম
3000rpm
6000rpm
12000rpm
1500rpm
জেনেটিক কোড
জেনেটিক ইনফরমেশনের মূল একক অনুলিপন। ড. হরগোবিন্দ খোরানা জেনেটিক কোড (কৃত্রিম জীন) আবিষ্কার করেন। উন্নতজাতের শস্যবীজ উদ্ভাবনে 'জেনেটিক ম্যাপ' ব্যবহৃত হয়। দুটো প্রজাতির সম্মিলনে সৃষ্ট জীবের জাতকে সংকর বলে।
জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং
Genetic Engineering অর্থ হলো জীন প্রকৌশল। প্রাণী ও উদ্ভিদের বংশ বিস্তার বিষয়ক বিজ্ঞান জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
ডলি
টেট্রা
পলি
প্রমিথিয়া
প্রোটিন সংশ্লেষণ
প্রোটিন সংশ্লেষণ হলো কোষের রাইবোসোমে ডিএনএ-র (DNA) জেনেটিক তথ্য ব্যবহার করে অ্যামিনো অ্যাসিড থেকে প্রোটিন বা পলিপেপটাইড শৃঙ্খল তৈরির জটিল জৈবিক প্রক্রিয়া। এটি মূলত দুটি প্রধান ধাপে সম্পন্ন হয়: নিউক্লিয়াসে ডিএনএ থেকে mRNA তৈরির প্রক্রিয়াকে ট্রান্সক্রিপশন এবং সাইটোপ্লাজমে রাইবোসোমে mRNA-র কোড অনুযায়ী প্রোটিন তৈরির প্রক্রিয়াকে ট্রান্সলেশন (অনুবাদ) বলা হয় ।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
ট্রান্সলেশন (Translation): mRNA অণং নিউক্লিয়াস থেকে রাইবোজোমে স্থানান্তরিত হয় এবং সংশ্লিষ্ট অ্যামাইনেো এসিড উৎপাদন করে। tRNA তে নিউক্লিয়োটাইডের ৩টি ট্রিপলেট থাকে যা mRNA এর কোডনের সম্পূরক। একে অ্যান্টিকোডন (anticodon) বলা হয়। অ্যামিনো অ্যাসিড tRNA এর মাধ্যমে পলিপেপটাইড চেইন এর সাথে যুক্ত হয়ে প্রোটিন তৈরিতে অংশগ্রহণ করে।
মিউটেশন (Mutation)
কোন জীবের এক বা একাধিক বৈশিষ্ট্যের আকস্মিক বংশগত পরিবর্তনকে মিউটেশন বলে। জীনের DNA এর নিউক্লিওটাইড অনুক্রমের স্থায়ী পরিবর্তনের কারণে মিউটেশন হয়। মিউটেশন দুই রকমের। যথা -
ক) স্বতঃস্ফুর্ত (Spontaneous): সূর্যের বিভিন্ন রশ্মি (আল্টাভায়োলেট রে), বিভিন্ন পারমাণবিক রশ্মি (গামা রে, বিটা রশ্মি), অধিক তাপমাত্রা ও বিভিন্ন রোগের কারণে দীর্ঘদিন স্টেরয়েড সেবন করলে স্বতঃস্ফূর্ত মিউটেশন হতে পারে। স্বতঃস্ফুর্ত মিউটেশনের হার অত্যন্ত কম।
খ) আবিষ্ট (Induced): মিউটাজেনিক এজেন্ট প্রয়োগের মাধ্যমে আবিষ্ট মিউটেশন ঘটানো হয়। উদ্ভিদে জেনেটিক ভেরিয়েশন সৃষ্টি করে প্রজনন কাজ এগিয়ে নেওয়ার জন্য এ ধরনের মিউটেশন ঘটানোর প্রয়োজন পড়ে।
জৈবপ্রযুক্তি (Biotechnology)
যে প্রযুক্তির সাহায্যে কোনো জীবকোষ, অণুজীব বা তার অংশবিশেষ ব্যবহার করে নতুন কোনো বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন জীব এর উদ্ভাবন বা উক্ত জীব থেকে প্রক্রিয়াজাত বা উপজাত দ্রব্য প্রস্তুত করা যায়, সে প্রযুক্তিকে জৈব প্রযুক্তি বলে । এটি DNA transplant মেথডে করা হয়।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
টিস্যু কালচার প্রযুক্তি (Tissue Culture)
সাধরণভাবে উদ্ভিদ টিস্যুকালচার বলতে উদ্ভিদের যেকোন বিভাজনক্ষম অঙ্গ থেকে (যেমন: শীর্ষমুকুল, কক্ষমুকুল, কচিপাতা ইত্যাদি) বিছিন্ন কোন টিস্যু সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্ত মিডিয়ামে কালচার (আবাদ) করাকেই বোঝায়। এরূপ কালচার পদ্ধতির মাধ্যমে উল্লিখিত টিস্যু থেকে নতুন চারা উদ্ভিদ উৎপাদন করা টিস্যু কালচার পদ্ধতির প্রাথমিক উদ্দেশ্য।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
পিসিআর (PCR= Polymerase Chain Reaction)
পিসিআর বা পলিমারেজ চেইন বিক্রিয়া একটি বায়োকেমিক্যাল প্রযুক্তি যার মাধ্যমে অতি অল্প সময়ে এক বা কয়েক কপি ডিএনএ কে লাখো বা কোটি গুণে উৎপাদন করা যায়। ১৯৮৩ সালে আমেরিকান বিজ্ঞানী ক্যারি মুলিস এ প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেন। ক্যারি মুলিস বলেন যে চেইন রি-অ্যাকশন মানে একটি ধাপে যে পরিমাণ ডিএনএ কপি তৈরি হবে পরবর্তী ধাপে সেগুলোই ব্যবহুত হবে কপি তৈরির উপাদান হিসেবে। তিনি দেখান যে, এক কপি ডিএনএ হতে পিসিআর পদ্ধতিতে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে লাখো বা কোটি ডিএনএ কপি তৈরি সম্ভব।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
ক্লোনিং (Cloning)
কোন জীব থেকে সম্পূর্ণ অযৌন প্রক্রিয়ার হুবহু নতুন জীব সৃষ্টির প্রক্রিয়াকে ক্লোনিং বলে। ড. ইয়ান উইলমুট প্রথম ক্লোন পদ্ধতিতে একটি ভেড়ার জন্ম দেন। সর্বপ্রথম যুক্তরাজ্যে Adult Cell ক্লোন করে যে ভেড়ার জন্ম দেওয়া হয়েছিল তার নাম 'ডলি'। ৫ জুলাই, ১৯৯৬ ডলির জন্ম হয়। আর্থাইটিস রোগে আক্রান্ত হয়ে ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০০৩ ডলি মারা যায়। বিশ্বের প্রথম ক্লোন বানর শাবকের নাম টেট্রা। ২৬ ডিসেম্বর ২০০২ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম ক্লোন মানব শিশু 'ইড' (কন্যা সন্তান) এর জন্ম হয়। WHO মানব শিশু ক্লোন নিষিদ্ধ করেছে।
টেস্ট টিউব শিশু (Test Tube Baby)
যে সকল দম্পতি কোনো কারণে সন্তান জন্ম দিতে পারে না, সেই দম্পতির স্ত্রীর ডিম্বাণু শরীর থেকে বের করে এনে স্বামীর শুক্রাণুর সাথে টেস্ট টিউবের মধ্যে রেখে নিষিক্ত করে ২/৩ দিন পর নিষিক্ত ডিম্বাণু ও শুক্রাণু স্ত্রীর জরায়ুতে স্থান করা হলে যে শিশু জন্মগ্রহণ করে, তাকে টেস্টটিউব বেবি বলে। বিশ্বের প্রথম টেস্ট টিউব বেবি লুইস ব্রাউন ইংল্যান্ডের ওল্ডহেম শহরের কারশো নামক হাসপাতালে ১৯৭৮ সালের ২৫ জুলাই জন্মগ্রহণ করে। ২০০১ সালের ৩০ মে বাংলাদেশে প্রথম টেস্ট টিউব শিশু 'হিরা, মনি ও মুক্তা' এর জন্ম হয়। বাংলাদেশের মোঃ আবু হানিফ ও ফিরোজা বেগম টেস্ট টিউবের মাধ্যমে সর্বপ্রথম সন্তান ধারণ করেন। টেস্ট টিউব বেবি' পদ্ধতির জনক রবার্ট এডওয়ার্ডস।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
নৃবিজ্ঞান (Anthropology)
আক্ষরিক অর্থে নৃবিজ্ঞান হলো মানুষ বিষয়ক বিজ্ঞান। কিন্তু মানুষ বিষয়ক অন্যান্য বিজ্ঞানের চেয়ে এর পরিধি ব্যাপকতর। লক্ষ কোটি বছরের মানুষের বিবর্তন এবং সাংস্কৃতিক বিকাশের গবেষণাও এর আওতায় পড়ে। নৃবিজ্ঞানের প্রধান শাখা হলো দৈহিক নৃবিজ্ঞান। দৈহিক নৃবিজ্ঞানের একটি উপশাখায় পৃথিবীতে মানুষের আবির্ভাব ও পরবর্তীকালে তাদের শারীরিক বিবর্তন নিয়ে আলোচনা করা হয়।
বিবর্তন (Evolution)
ইংরেজ জীববিজ্ঞানী চার্লস ডারউইন (Charles Robert Darwin) সর্বপ্রথম বিবর্তনের ধারণা দেন। ১৮৫৯ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর আলোড়ন সৃষ্টিকারী গ্রন্থ "The Origin of Species" এ প্রাকৃতিক নির্বাচন তত্ত্ব উপস্থাপন করেন যা বৈজ্ঞানিক মহলে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা পায়।
বিবর্তন একটি জীববৈজ্ঞানিক ধারণা যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে জীবের গাঠনিক এবং চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের ক্রম পরিবর্তনকে বুঝায়। কোনো জীবের বংশধরদের মাঝে যে জীনরাশি ছড়িয়ে পড়ে তারা বংশপ্রবাহে বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য সৃষ্টি করে। জিনের পরিব্যক্তির মাধ্যমে জীবের নির্দিষ্ট কোনো বংশধরে নতুন বৈশিষ্ট্যের উদ্ভব ঘটতে পারে বা পুরানো বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তন ঘটতে পারে। যদিও এক প্রজন্মে জীবের বৈশিষ্ট্যের যে পরিবর্তন হয়, তা খুব সামান্য। কিন্তু কালক্রমে জীবগোষ্ঠীতে সেই পরিবর্তন উল্লেখযোগ্য হয়ে দেখা দেয়, এবং এমনকি একসময় তা নতুন প্রজাতি উদ্ভবের কারণও হয়ে দাড়াতে পারে।